up

#ইস্তাম্বুল



 আমি ইস্তাম্বুল ম্যারাথনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ৬ দিনের জন্য তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর ইস্তাম্বুলে গিয়েছিলাম। এই সফরের মূল আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক ম্যারাথন।যা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আমি বাকি ৪ দিন শহরটি ঘুরে দেখি।


ইস্তাম্বুল শহরে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই মনে হলো, আমি যেন এক শহরে নয়—দুটি মহাদেশের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি। এশিয়া ও ইউরোপের মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা এই শহর ইতিহাস, সংস্কৃতি আর সৌন্দর্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।


সকালের আলোয় হাগিয়া সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম, সময় এখানে শুধু ইতিহাস নয়—একটি জীবন্ত অনুভূতি। কখনো গির্জা, কখনো মসজিদ, আবার এখন জাদুঘর—হাগিয়া সোফিয়া ইস্তাম্বুলের আত্মার মতোই বহুমাত্রিক। পাশেই নীল মসজিদ (সুলতান আহমেদ মসজিদ) তার নীল টাইলস আর শান্ত পরিবেশ দিয়ে মন ছুঁয়ে যায়।


গ্র্যান্ড বাজারে ঢুকতেই চোখে পড়ে রঙিন বাতি, কার্পেট, মসলা আর হাতে তৈরি নানা শিল্পকর্ম। মানুষের কোলাহল, দোকানদারদের হাসিমুখ আর দর কষাকষির মজা—সব মিলিয়ে এক আলাদা আনন্দ। এখানকার তুর্কিশ চা আর কফির স্বাদ আজও মনে গেঁথে আছে।


বসফরাস প্রণালীতে নৌভ্রমণ ছিল পুরো সফরের সবচেয়ে শান্ত মুহূর্ত। পানির ওপর ভেসে থাকা অবস্থায় এক পাশে ইউরোপ, অন্য পাশে এশিয়া—এই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সূর্যাস্তের সময় আকাশ আর পানির রঙ বদলে যাওয়া যেন প্রকৃতির এক নীরব কবিতা।এছাড়া রাতের আলোয় আলোকিত ইস্তাম্বুল শহর, নৌকার ওপর বসে খাবার উপভোগ করা এবং দুই মহাদেশের মাঝখান দিয়ে ভেসে চলার অনুভূতি ছিল সত্যিই অসাধারণ।


গালাটা টাওয়ার থেকে পুরো শহরকে এক নজরে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল খুবই রোমাঞ্চকর। ওপর থেকে বসফরাস, পুরোনো শহরের ছাদ আর আধুনিক ইস্তাম্বুল—সবকিছু একসঙ্গে দেখা যায়।



ইস্তাম্বুল শুধু দেখার শহর নয়, অনুভব করার শহর। এখানে ইতিহাস কথা বলে, রাস্তা গান গায়, আর মানুষ আপন করে নেয়। ইস্তাম্বুল ভ্রমণ শেষে মনে হয়েছিল—আমি শুধু একটি শহর ঘুরে আসিনি, বরং এক জীবন্ত সভ্যতাকে ছুঁয়ে দেখেছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ads Inside every post