traveling story লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
traveling story লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

#থাইল্যান্ডের উৎসব (loy krathong)



loy krathong' নামে থাইল্যান্ডে একটা চমৎকার উৎসব পালিত হয়।loy krathong এর বাংলা হলো  'আলোর উৎসব'মূলতলোই ক্র্যাথং জলের দেবীকে সম্মান জানাতে হ্রদনদীখাল এবং সমুদ্র সৈকতে থাইল্যান্ডের মানুষ একত্রিত হয়।অংশগ্রহণকারীরা মোমবাতি এবং ফুল দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো ফুলের তোড়া জলে ভাসিয়ে দেয়।তারা বিশ্বাস করে এতে তারাদুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি পাবেএবং সৌভাগ্য আসবে।আমি ২০ বছর থেকে থাইল্যান্ড আসা যাওয়া করলেও  এইবারেই প্রথম এইউৎসব দেখা সুযোগ হয়েছে।


থাইল্যান্ডের Loy Krathong উৎসবটি থাই চন্দ্র ক্যালেন্ডারের দ্বাদশ মাসের পূর্ণিমার রাতে উদযাপন করা হয়।আধুনিকক্যালেন্ড্রিক্যাল পদ্ধতিতেএই উৎসবটি সাধারণত নভেম্বর মাসে হয়তবে তারিখটি প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়।সময় বা তারিখপরিবর্তিত হলেও,Loy Krathong এর আনন্দ,গাম্ভীর্য একইরকম থাকে।




"লয় ক্রাথংশব্দটির "লয়শব্দটির বাংলা অর্থ "ভাসতে থাকা বা ভাসমান এবং "ক্রাথংশব্দটির অর্থ ভাসমান ধর্মীয়অফার বা ভাসমান শ্রদ্ধাঞ্জলি।এই উৎসবের বিশেষত্ব হল পুরো থাইল্যান্ড জুড়ে ছোট-বড় সব জলাশয়ে ফুল আর মোম দিয়েসাজানো তোড়া ভাসানো হয়।স্থানীয় প্রথা এবং বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে কিছুটা পরিবর্তিত হয়তবে উদ্দেশ্য একই মানেসৌভাগ্য লাভ।


প্রতি বছর আধুনিকতার ছোঁয়ায়,লয় ক্র্যাথং আধুনিক সামাজিক জীবনযাপনের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে নতুন রুপে আসে। লয়ক্র্যাথং এখনও থাইল্যান্ডের অন্যতম বড় উৎসব গুলোর একটি হিসেবে পালিত হয়। এটি কেবল রঙিন সাজসজ্জা বাআড়ম্বরপ্রধান পরিপূর্ণ অনুষ্ঠান নয়এটি থাই জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ  ঐতিহ্যকে সম্মানের মূল্যকেও প্রতিফলিত করে।


আমি নিজেও বিশ্বাস করি একটি জাতি তখনই সভ্য এবং আধুনিক বা প্রগতিশীল বলে বিবেচিত হয় যখন সে জাতি তাদেরঐতিহ্যকে সম্মান করে সামনের দিকে এগিয়ে চলে।তাদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।




লাভ লক(ইংল্যান্ড,নিউক্যাসেল)


মানুষের জীবনে যত দুর্বোধ্য বিষয় রয়েছে, তার মধ্যে সব থেকে বেশি দুর্বোধ্য মনে হয় প্রেম বা ভালোবাসা। তবে যতই দুর্বোধ্য হোক না কেন, ভালোবাসা ছাড়া যেন চলে না আমাদের। আর ভালোবাসা মানেই নানা ধরনের পাগলামি। তেমনি হলো ‘লাভ লক’ বা ভালোবাসার তালা। একটা তালায় প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের নাম বা প্রেমের সংলাপ লিখে কোনো রেলিংয়ে বা ব্রীজে তালাটি লাগিয়ে দিয়ে চাবিগুলো ফেলে দেয়। তারা বিশ্বাস করে তালাটি যত দিন বন্ধ থাকবে, তত দিন তাদের ভালোবাসাও থাকবে অটুট। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন স্থানে ভালোবাসার তালা দেখা যায়।বিষয়টা অনেকেই জানে না বা জানলেও হাস্যকর ও অদ্ভুত মনে হতে পারে।তবে যতই আপনার আমার কাছে অদ্ভুত মনে হোক না কেন, বহু বছর ধরে সারা দুনিয়ার প্রেমীরা করে আসছে😊।



আমার জানা মতে, লাভ-লক রীতিটির উৎপত্তি প্যারিস থেকে। হবেই না কেন!! শিল্প আর প্রেমের রাজধানীই বলা হয় প্যারিসকে।শুরুটা ১৮০৪ সালের তৈরী প্যারিসের পন্ট ডেস আর্টস ব্রিজে।এখানে প্রেমিক-প্রেমিকারা তাদের ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তালা ঝুলিয়ে যায়।শুরুটা কত সাল থেকে তা নিয়ে বিতর্ক আছে।তবে উৎস ফেডেরিকো মক্সিয়া নামে এক ইতালিয়ান লেখকের ‘আই ওয়ান্ট ইউ’ বই থেকে।আর ২০০৮ থেকে টুরিস্টদের ঢল নামে।এর নাম হয়ে যায় "লাভ লক ব্রীজ"। ২০১৪ তে এসে পুরো ব্রীজ তালায় ঢেকে যায়। প্রায় ৭লক্ষ তালা ইতিমধ্যে আটকানো হয়েছে। যার ওজন গিয়ে দাঁড়ায় ৪৫ টন যা বিশটি হাতীর ওজনের সমান। জায়গা না পেয়ে তখন তালার উপর তালা দেয়া হচ্ছিল। এই অতি ওজনের কারনে ইতোমধ্যে ব্রীজের একটি প্যানেল ক্ষতিগ্রস্তও হয়। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ ২০১৫তে এই তালা অপসারন করা শুরু করে। আর ক্যাম্পেইন করা শুরু করে "লাভ উইদাউট লক" আর "তালার বদলে সেলফি তোল"।



এছাড়া দক্ষিন কোরিয়ার সিউলের নামসান টাওয়ার নামের একটা টাওয়ার আছে যেখান থেকে পুরো সিউল শহর দেখা যায়। এই নামসান টাওয়ারের নীচের একটা অংশ  ‘লাভ-লক’ এর জন্য জনপ্রিয়।



 স্কটল্যান্ডের নিউক্যাসেলের টাইন নদীর উপর নির্মিত একটি ব্রিজে এমন 'লাভ লক' এর দেখা মিলে ছিলো আমার।আঠারো শতকের দিকে তৈরী এই রেল ব্রিজটা নিউক্যাসলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনা গুলোর একটি। 

পাহাড়ি উঁচুনিচু টিলা, ছিমছাম গোছানো, সুদৃশ্য আর পরিচ্ছন্ন শহর এই নিউক্যাসল। টাইন নদী শহরটিকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। টাইন নদীর উপরে সুদৃশ্য বেশ কিছু ব্রিজ আছে।যা শহরকে দিয়েছে অন্যন্য স্বকীয়তা। এই ব্রিজটাও তার একটি।আমার জানা ছিলো না নিউক্যাসেলে 'লাভ লক' আছে।কারন এই লাভ লক স্পষ্ট স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হলেও আন্তর্জাতিক ভাবে এখনো জনপ্রিয় নয়।তবে যেহেতু প্যারিসের লাভ লক ব্রিজ আমার দেখা হয় নাই, তাই এটা আমার কাছে বেশ লেগেছে😊।

মন্দ কি! সব শহরেই থাকুক না এমন কোন জায়গা, যা ভালোবাসা এবং রোমান্সের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে।ভালোবাসাকে সত্যি সত্যি তালা-চাবি দিয়ে বন্দী করা যায় কিনা, সে তর্কে বরং না যাই। ভালোবাসা তো আর যুক্তি-তর্ক মানে না।আমাদের দেশেও এমন একটা জায়গা থাকলে মন্দ হতো না।যেমন বান্দরবানের কোথাও😊 




শার্লক হোমস জাদুঘরে কৈশোরের স্মৃতি রোমন্থন

শার্লক হোমস নামক কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্রটি ১৮৮৭ সালে প্রথম আবির্ভূত হয়।এই চরিত্রের স্রষ্টা স্কটিশ লেখক ও চিকিৎসক স্যার আর্থার কোনান ডয়েল।শার্লক হোমসের নাম শোনে নি এমন মানুষ বোধ হয় পৃথিবীতে বিরল।যখন সাহিত্যে গোয়েন্দা ধারাটি অপ্রচলিত ছিল,তখন শার্লক হোমসের সৃষ্টি।তারপর শতাধিক বছর ধরে পৃথিবীর সব গোয়েন্দা চরিত্রের অনুপ্রেরণা, সর্বকালের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা চরিত্র হয়ে উঠে শার্লক হোমস।আমার মতো অনেকের কিশোর বয়সের হিরো।আমার তো শার্লক হোমসের নাম বলতেই ঠোঁটে পাইপ, হাতে ছড়ি, পরনে ওভারকোট, মাথায় কানটুপি পরা এই দীর্ঘদেহী-খাড়া নাকের মানুষের চেহারা কল্পনায় আসে মূহুর্তের ভিতর।অসম্ভব জনপ্রিয় এই কাল্পনিক চরিত্রটি তৈরী করেছিলেন স্যার আর্থার কোনান ডয়েল।লেখক এই কাল্পনিক চরিত্রটি তাঁর প্রাক্তন শিক্ষক, ডঃ জোসেফ বেলের ছায়া অবলম্বনে লেখেন।সেই সময়ের অপরাধ তদন্তের বিষয় এখনকার মতো আধুনিক ছিলো না।কিন্তু এই জোসেফ বেল বিভিন্ন খুনের ফরেনসিক রিপোর্ট দিয়েই খুনীর প্রোফাইল বলে দিতে পারতেন।বলা যায় তার হাত ধরেই স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তদন্তে ফরেনসিক সাইন্স যোগ হয়, যা পরবর্তীতে সব দেশে অপরাধ তদন্তে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।লেখক এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন তার সেরা সৃষ্টি 'শার্লক হোমস' চরিত্রটি বেলের ডিডাকশনের অসাধারণ ক্ষমতাই দিয়েই তিনি তৈরি করেছেন।এবং ড. বেল ও নিজের বয়সকে মাথায় রেখে শার্লক, ওয়াটসন্, মরিয়ার্টি চরিত্র গুলো সৃষ্টি করেছেন।তবে কল্পনার এই শার্লক হয়ে ওঠে জীবন্ত,বনে যায় কিংবদন্তির চরিত্র।বিশেষ করে এডভেঞ্চার প্রিয় পাঠকদের কাছে।আমিও তাই সেই কৈশোরের ভালোবাসার টানে শার্লক হোমসের জাদুঘর ঘুরতে গিয়েছিলাম লন্ডন বেড়াতে গিয়ে।

সিটি ট্যুর বাস স্টপ থেকে পাঁচ  মিনিটের প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর কাউকে জিজ্ঞেস করতে হয় না নতুন ঠিকানা খুঁজে পেতে।খুব সকালে যাওয়াতে বেশি মানুষ ছিল না।এটা আর দশটা জাদুঘরের মতো অবকাঠামো না, অনেকটা ছোট পরিসরে। আমি ভেতরে ঢুকে টিকেট কিনতে গিয়ে খেয়াল করলাম,এটা টিকেট কাউন্টার কাম স্যুভেনির শপ।বিভিন্ন রকমের স্যুভেনির সাজানো আছে ভক্তদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে।


কাউন্টার থেকে বের হয়ে পাশের দরজা দিয়ে মূল জাদুঘর ঢোকার পথের ট্যাডিশনাল পোশাক পরা গেট কিপারের সাথে কেউ কেউ মজা করে ছবি তুলছিল।কাল্পনিক শার্লকের বাড়ির সঙ্গে মিল রেখে এখানেও সিঁড়ি করা হয়েছে ১৭টি।প্রথমেই স্টাডি রুম। ঢুকেই বাঁ দিকে ওয়াটসনের ডেস্ক।সেখানে একটা ১৮৮১ সালের দৈনিক পত্রিকা রাখা আছে।সম্ভবত চরিত্রের সঙ্গে মিল রেখে এটা করা হয়েছে।এছাড়া ডেস্কটাতে মেডিকেলের কিছু বইও রেখেছে।তবে সব অংশ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা নয়। কিছু অংশ আটকানো।

আরেক দিকে গেলে,সেখানে একটা ছোট টি-টেবিলের ওপর কিছু ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছিল।আরেকটা টেবিলে মাইক্রোস্কোপটা,আতশ কাচটা আর বিখ্যাত হোমসের পাইপ।কোনায় স্তূপ করে রাখা পুরোনো পত্রিকা, বই।আমার বিখ্যাত পাইপটা ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করছিল😊কিন্তু ধরতে মানা।এই রুম থেকে হোমসের বেডরুমে যাওয়া যায়। হোমসের বেডরুমের দেয়ালজুড়ে অনেক ছবি।আমি ভেবেছিলাম বাকী চরিত্রের অভিনেতাদের ছবি আমার ভুল ভাঙলো গাইড।সে জানাল,ছবিগুলো সব সিরিয়াল কিলার আর কুখ্যাত সব অপরাধীর ছবি।যাদের দিকে এক মিনিট আগে আনন্দের দৃষ্টিতে দেখেছি,একটু পরেই ভ্রু কুঁচকে তাকালাম।যা মানুষের স্বাভাবিক স্বভাব। শার্লকের বিছানার ওপর একটা খোলা বাক্স।সেখানের  সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসটা হলো হ্যাট।যা ছাড়া শার্লক হোমসের চেহারাই চিন্তা করা যায় না।


চারতলার এই বাড়ির প্রতিটি রুম এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যেন দর্শনার্থীরা তাদের কল্পিত চরিত্র গুলোর ভিতরে অবলীলায় প্রবেশ করতে পারে।পুরো জাদুঘরকে দর্শনার্থীদের কাছে জীবন্ত করে তুলতে উপন্যাসের আলোকে ভিক্টোরিয়া আমলের ফার্নিচার দিয়ে সাজানো হয়েছে। তিনতলার দুটো রুম ছিলো মিসেস হাডসনের চরিত্রকে প্রকাশ করার জন্য।রুমটাতে রাখা ছিল ভিক্টোরিয়া আমলের মেয়েদের পোশাক।আরেক  রুম ছিল ডা. ওয়াটসনের জন্য বরাদ্দ।সেখানটা বই আর ছবিসহ ছোটখাটো জিনিস দিয়ে সাজানো।উপরের তলার রুমে  কিছু মোমের তৈরি ম্যানিকুইন রাখা ছিল।অনেক গুলো ম্যানিকুইনের সঙ্গে প্রফেসর মারিয়ার্টিও ছিলো।


একটি কথা না বললেই নয়, আর ১০টা জাদুঘরের মতো নয় এই জাদুঘর।যে কোন জাদুঘর যেভাবে গ্যালারি করে, প্রতিটি জিনিসের নামসহ সাজানো হয়।এখানে তা করা হয় নাই।অল্প খুব কিছু জিনিসকে সেভাবে প্রথাগত ভাবে উপস্থাপন করা হলেও বেশির ভাগ নিদর্শনের সামনে কোনো ব্যাখ্যা ছিলো না।এছাড়া জাদুঘরের প্রফেশনাল গাইড যেভাবে জাদুঘরের প্রতিটি জিনিসের ব্যখ্যা দেয় দর্শনার্থীদের, সেভাবে এখানে দেয় নাই।কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়া আর প্রবেশের প্রথমে 'লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান ওয়েলকাম টু দ্য শার্লক হোমস মিউজিয়াম, আই অ্যাম হিয়ার টু হেল্প ইউ ইন দ্য জার্নি....'এছাড়া বেশি কোন দায়িত্ব পালন করতে হয় নাই।কারন জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানেন এখানে যারা আসেন তারা তাদের কাল্পনিক চরিত্র গুলো সম্পর্কে এতবেশী জানেন যে তাদের আর নতুন করে পরিচিত করতে হবে না কিছুর সঙ্গে।


দর্শনার্থীরাও খুব একটা প্রশ্ন করে নাই তাকে, যারা এসেছে সবাই শার্লকের সব খুঁটিনাটি বিষয়ও জানে।তবে আমি কৌতূহল থেকে তাকে প্রশ্ন করেছি, কাল্পনিক চরিত্র হোমসের এসব জিনিস কোথা থেকে এল! যদিও সম্ভাব্য উত্তর জানা ছিল, শুধু মিলিয়ে নেয়া জন্য।জিনিস গুলো হলো হোমসকে নিয়ে যেসব সিনেমা, নাটক হয়েছে, সেগুলোর অভিনেতা অভিনেত্রীতের ব্যবহার করা কস্টিউমস থেকে নির্বাচন করা হয়েছে।তবে বেশির ভাগ জিনিসই সিডনি পেইজের করা চরিত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।


জাদুঘর থেকে বের হয়ে ছোটখাটো স্যুভেনির কিনে রাস্তায় নেমে খেয়াল করলাম পাশের বাড়ির নাম্বার ২৩৭।সেই অনুযায়ী এই বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার হবে ২৩৯।তার মানে কি হোমসের বাড়ির নাম্বার পরিবর্তন হয়েছে! কৌশলের দৃষ্টিতে ভালো করে দেখলাম গেটের উপর।তখন 

দোতলার জানালার নিচে 221B লেখা একটা নম্বর প্লেট ঝোলানো।ভাগ্যিস আমি গুগলে শার্লক হোমস জাদুঘর লিখে সার্চ করেছি, এড্রেস দিয়ে সার্চ করিনি।করলে হয়তো বা গোলকধাঁধায় পড়তাম।


বাস স্টপের দিকে হাঁটতে হাঁটতে কৌতূহল থেকে গুগলে সার্চ দিলাম শার্লকের বাড়ির ইতিহাস।এটি লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারের একটি পুরানো রাস্তা।যা ১৮শ শতাব্দীদতে উইলিয়াম বেকার নামে এক ব্যাক্তি যখন  এই রাস্তা তৈরি করেন তখন ১০০ পর্যন্ত হোল্ডিং ছিল।শার্লক হোমসের উপন্যাস লেখক ইচ্ছে করে অবাস্তব একটা নাম্বার দিয়েছেন।তবে সময়ের সাথে সাথে বেকার স্টিটের নম্বর বেড়েছে।সেই হিসেবে এখন শার্লক হোমসের বাড়ির মূল নাম্বার ২৩৯।তবে ঝামেলা শুরু হলো যখন ১৯৩০ সালে সেখানে অ্যাবে ন্যাশনাল বিল্ডিং সোসাইটির অফিস শুরু হয়। অফিস চালুর পরদিন থেকে তারা চিঠি পেতে শুরু করে ২২১ বি বেকার স্ট্রিটের ঠিকানায়,শার্লক হোমসের নামে।তারা সেই চিঠির উত্তরও দিয়েছে।১৯৯০ সালে এই মিউজিয়াম যাত্রা শুরুর পর এই চিঠি নিয়ে আইনগত লড়াই শুরু হয়।শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালে জাদুঘরই চিঠি গুলোর মালিকানা পায়।আর ১৯৯০ সালে মূল নম্বর পালটে অফিসিয়ালি ভাবে জাদুঘরকে ২২১বি নাম্বার দেয়া।


 বাস স্টপে অপেক্ষা করতে করতে ভাবছিলাম আমাদের বাংলা সাহিত্যের একজন শার্লক হোমস আছেন 'ফেলুদা' নামের। বাংলা সাহিত্যের গর্ব সত্যজিৎ রায়ের অনবদ্য সৃষ্টি ফেলুদাকে নিয়েও একটা জাদুঘর থাকতে পারতো দুই বাংলার কোথাও।না হওয়াটা হলো আমাদের বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের দৈন্যতা।



# দরকারি তথ্য:

১. টিকিট: ১৫ পাউন্ড। 

২. খোলার সময়: ৯.৩০

৩. সিটি বাস বা মেট্রোরেল থেকে পায়ে হাঁটা পথ।

৪. লন্ডনের রাস্তার নাম্বার আমাদের দেশের মতো ক্রমানুসারে নয়, সেখানে জোড় সংখ্যা একদিকে থাকে।অন্যদিকে বিজোড় সংখ্যা থাকে।তাই।কোথাও টিকানা খোঁজ করতে বিষয়টা মাথায় রাখবেন।


 

#মালয়েশিয়ার গেন্টিং হাইল্যান্ড(মালয়েশিয়া ভ্রমণ)


 মালয়েশিয়ার কথা বলতেই আমার চোখে ভাসে ঔপনিবেশিক ভবন এবং আইকনিক ৪৫১ মিটার লম্বা পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের মতো আকাশচুম্বী ভবন।মূলত মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির একটি দেশ। মালয়েশিয় সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হলো সেখানকার আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সমাজের আবহমান কাল ধরে পালন করে আসা বৈচিত্রময় দৃষ্টিভঙ্গী ও আচার-আচরণ।যা ইসলামি সংস্কৃতির সাথে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছে।মালেশিয়া এশিয়ার অন্যতম কসমোপলিটান দেশ হতে পেরেছে তাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মূল্যবোধ, সুন্দর অর্থনৈতিক সম্পর্ক আর শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর কারনে।আর মালেশিয়ার এই বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজই আমাকে চরমভাবে আকৃষ্ট করে।প্রথম বার মালেশিয়ায় গিয়ে তো আমি এয়ারপোর্টের আধুনিকতা থেকে শুরু করে সাজানো গোছানো সিটি, উন্নত অবকাঠামো সব কিছুতেই অবাক হয়েছি।

#ত্রিপুরা ভ্রমণ




বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য। এই রাজ্যের আয়তন ১০,৪৯১.৬৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই রাজ্যের তিনদিকে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।তাই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশীদের বড় আশ্রয়স্থল হয়ে ছিল ত্রিপুরা।এটি ভারতের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য।

#থাইল্যান্ডের টাইগার টেম্পল


কিউট একটা বাঘের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ছবি তোলার শখ কার না আছে! বা জলজ্যান্ত রাজকীয় চেহারার একটা বাঘের পাশে বসে পোজ দেয়ার সুযোগ কে হারাতে চায়! আমিও তাই আমার ফেসবুক প্রোফাইল ছবিটা বাঘের সাথে দেয়ার শখ করতেই পারি☺️

# উটি ভ্রমণ(ভারতের তামিলনাড়ু ভ্রমণ)



কিশোরী বসে যখন শাহরুখ খান আর মালাইকা অরোরার 'ছাইয়া ছাইয়া' গানটা টেলিভিশনের পর্দায় দেখতাম,তখন গান বা নাচের চেয়ে দৃশ্যপট আমাকে বেশী মুগ্ধ করতো। অবাক হয়ে ভাবতাম কোথায় আছে এমন দৃশ্য! আমার মনে হতো কোন শিল্পীর আঁকা চিত্রপটের উপর দিয়ে একটা ট্রয়ট্রেন এঁকেবেঁকে চলে যাচ্ছে।অনেক পরে জেনেছি এই সবুজ মখমলের চাদরে জড়ানো পাহাড়ে গাঁ ঘেঁষে ট্রেন চলা এই গানের দৃশ্যায়ন করা হয়েছে পাহাড়ের রানি উটির পথে চলা ট্রয়ট্রেনে।সত্যি ট্রয়ট্রেনে উটিতে যাওয়ার পথ যেন প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়ে রেখেছে।অসম্ভব সুন্দর।কখনো পাহাড়ের পাশ দিয়ে কখনো পাহাড় ফুটো করা গুহার মধ্য দিয়ে।ঝরনার সংখ্যা তো অগুনিত।ঝর্ণা কোথাও দুর পাহাড়ে,কোথাও হাতের সাথে,চাইলেই যেন শীতল পরশ পাওয়া যাবে।

# গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ



সিলেট হচ্ছে দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজ রংয়ের নয়নাভিরাম চারণভূমি, এখানকার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক শোভা অতি সহজে মুগ্ধ করে যে কাউকে। প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যের অপূর্ব সৌন্দর্য মানুষকে করে সম্মোহিত করে, দ্রবীভূত করে।বলা যায় বাংলাদেশী টুরিস্টদের ভ্রমণ ডায়েরির পাতায় সিলেটের অসাধারণ নৈসর্গিক সবুজ চাদরে জড়ানো উঁচু নীচু টিলা আর দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগান   স্বপ্নের গন্তব্য।আর ১৩.৬ একর জায়গা নিয়ে পাঁচ তারকা মানের ‘গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এ্যন্ড গলফ’ হলো লাক্সারি অবকাশ যাপনের এক নতুন পালক।

# দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা



 রিসোর্টের রিসিপশনের কাঠের কারুকাজময় ঝাড় বাতি 

আমাদের গাড়ীটা ঢাকা সিলেট রোডের শ্রীমঙ্গল অংশে ঢোকার পর ড্রাইভারকে গাড়ীর গতি কমিয়ে দিতে বলি।এতক্ষণের বোরিং রাস্তার বিরক্তি নিমিষে উধাও।আমার কাছে চা বাগানের ভিতরের এই রাস্তাকে বাংলাদেশের সেরা রাস্তা মনে হয়।কেউ কেউ বান্দরবন বা রাঙামাটি ভোটে এগিয়ে রাখবে জানি, কিন্তু মনে হয় সেখানে দুর্ঘটনা ঝুঁকি থাকায় সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায় না বা দাঁড়ানো যায় না খানিকক্ষণের প্রশান্তির জন্য।যা এখানে সম্ভব।যত দূর চোখ যায় কেবল সবুজের হাতছানি।নীল আকাশের নিচে যেন সবুজ গালিচা পেতে আছে সজীব প্রকৃতি। ছোট ছোট পাহাড়, টিলা আর দিগন্ত বিস্তৃত চা-বাগান, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ।শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঝে মাঝে টিলা বেষ্টিত ছোট ছোট জনপদ। প্রকৃতির সকল সৌন্দর্যের সম্মিলন যেন এখানে।এমন অন্তহীন সৌন্দর্যে একাকার প্রকৃতির প্রেমে না পড়ার মতো কোন হৃদয়হীন এই ধরাধামে আছে বলে মনে হয় না।

সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ(ড্রিম ডেসটিনেশন)






ছোটবেলায় ক্যালেন্ডারে বরফাচ্ছন্ন সাদা পর্বতশৃঙ্গ দেখে দেখে কল্পিত এক সুইজারল্যান্ডের ছবি আঁকতাম আমি, যেখানে সব কিছু সাদা।এমন কি গাছও সাদা😂।আসলে সুইজারল্যান্ড নিয়ে ফ্যান্টাসি আমার সেই পিচ্ছি আমল থেকেই।শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো সুন্দর, সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে কথাটা যেন শতভাগ প্রযোজ্য।সুইজারল্যান্ড কারো কাছে ঘড়ি বা চকলেটের দেশ, কারো কাছে আল্পসের বাড়ি বা রেড ক্রসের জন্মস্থান।কিন্তু আমার কাছে সুইজারল্যান্ড হলো দৃষ্টিনন্দন পর্বতশৃঙ্গ, দুর্দান্ত হিমবাহ, প্রসস্ত হ্রদ, মনোরম শান্ত গ্রাম, সবুজ চারণভূমির সম্মিলিত রূপ।মনে হয়,টলটলে নীল জল থেকে উঠে আসা আল্পসের তুষারাবৃত চূড়াগুলি যেন মেঘের মধ্যে প্রবেশ করে। তুষার মুকুট পরিহিত আল্পসের চূড়ার মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্যা ও রুপকথার গল্পের গ্রামের মত সাজানো গ্রাম বা বিশাল সবুজের কার্পেটে মোড়ানো এমারেল্ড ভ্যালী সুইজারল্যান্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স এবং অস্ট্রিয়া দ্বারা বেষ্টিত আল্পস পর্বতমালার দেশ সুইজারল্যান্ডের নৈসর্গিক সৌন্দর্য পাশাপাশি এখানে আছে হাইকিং, বাইকিং, ক্লিম্বিং, স্কিইং, প্যারাগ্লাইডিং ও স্লেজ গাড়িতে চড়ার সুবিধা।মধ্য-পশ্চিম ইউরোপের পাহাড়ি দেশ সুইজারল্যান্ডের একটি দীর্ঘ শান্তির ইতিহাস রয়েছে একটি যুদ্ধবিহীন দেশ হওয়ার।পাঁচশ বছরেরও বেশি, যা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি।সেই শান্তির ধারাবাহিকতা এখনো আছে তাই দেশটির রাজনৈতিক অবস্থা ভারসাম্যমূলক ও অত্যন্ত সুস্থির।এদেশের মানুষ এতটা শান্তি প্রিয় যে,দেশটির কোনো নিয়মিত সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা তারা বোধ করে নাই।

#হংকং ভ্রমণ

 




দ্বীপ শহর হংকং গণ প্রজাতন্ত্রী চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলযা পার্ল নদীর বদ্বীপের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এই দ্বীপের উত্তরে চীনের কুয়াংতুং প্রদেশ এবং পূর্বপশ্চিম  দক্ষিণে দক্ষিণ চীন সাগর অবস্থিত।দীর্ঘ সময় এটি  ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল। ১৯৯৭ সালে হংকং আবার চীনের সাথে যুক্ত হয়।তবে চীন সরকার হংকংকে একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের মর্যাদাদেবার ব্যাপারে সম্মত হয়,তাই চীনের বাকী অংশে প্রচলিত সব নীতি বা নিয়ম এখানে অনুসরণ করতে হয় না।তাই এইব্যাপারটিকে "এক দেশদুই ব্যবস্থাবলে থাকে অনেকে।

Ads Inside every post