travel lover?I’m binita.I love sharing my traveling experience, photographs. i'd love to provide travel tips, information,that's what makes your travel memorable.
#কুয়াকাটা ভ্রমণ
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#বান্দরবান ভ্রমণ -২
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#বান্দরবান ভ্রমণ-১
এডভেঞ্চার প্রিয় বাংলাদেশি ট্র্যাভেলারদের কাছে পার্বত্য এই জেলা অসম্ভব জনপ্রিয়।যারা পাহাড়ের গহীনে সবুজের নিজেকে হারাতে চায় তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে আসে বারবার। অনেকের কাছে শীত বান্দরবান বেড়ানো সেরা সময় মনে হয়।আবার কেউ কেউ বর্ষাকে বেছে নেয়।আমার কাছে মনে হয় বান্দরবানের মতো পাহাড়ি পরিবেশে বেড়ানো নিদিষ্ট সময় লাগে না, সুযোগ পেলেই আসা যায়।শীতে কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রাকৃতি যেমন অতুলনীয়, তেমনি বর্ষার বৃষ্টির ছোঁয়ায় পাহাড় যেন গাঢ় সবুজের রঙে নিজেকে মেলে ধরে আপন সাঁজে।তবে তারপরও আমাকে নিদিষ্ট সময় বলতে বাধ্য করলে বলবো বর্ষার শেষ, শীতের শুরুতে বান্দরবানের সৌন্দর্যের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যের মিলন ঘটে বেড়ানো জন্য।চারিদিকে সবুজের হাতছানি আর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে প্রকৃতির রাজ্যে নিজেকে হারানোর অনুভূতিই অন্যরকম।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#কক্সবাজার

Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#পদ্মা সেতু
টোল দেয়া জন্য সারিবদ্ধ গাড়ীর পেছনে আমাদের গাড়ী দাঁড়ালে গাড়ীর গ্লাস নামিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে প্রমত্তা পদ্মার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ধূসর রঙের দ্বিতল ইট-পাথরের কাঠামোর পদ্মা সেতুকে দেখতে দেখতে ভাবলাম কি বিশেষত্ব আছে এই সেতুর,বিশ্বের সেরা কোন স্থাপনা এটি নয়, সৌন্দর্যের বিচারেও আহামরি কিছু নয়,তারপরও সারাদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু এখন এই সেতু।যারা দেখার সুযোগ পাচ্ছে তারা ছুটে আসছে দেখতে, আর যারা পাচ্ছে না তারা টেলিভিশনের পর্দায় দেখে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছে।সেতুকে ঘিরে মানুষের এই অনুভূতি ও উচ্ছ্বাসের কারণ বুঝতে হলে যেতে হবে এই সেতুর জন্ম ইতিহাসে।অনেক বাধা উপেক্ষা পার করে শেষ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের দুঃসাহসিক কাজ শেষ হয়েছে।আমি রাজনীতি বুঝি না, বুঝতেও চাই না।তাই এসবে কারণ আমি বুঝি না এবং সে আলোচনা একপাশেই থাক।আমি বুঝি চ্যালেঞ্জকে জয় করার বাঙালির আজন্মের অদম্য স্পৃহার বিজয় প্রতীক এবং আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে অপার সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছি এই সেতু।তাই এই সেতু শুধু রড, সিমেন্ট ও পাথরের তৈরী কোন অবকাঠামো নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৬ কোটি মানুষের আবেগ,ভালবাসা।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#ঢাকার আশেপাশের রিসোর্ট
কর্মময় এই যান্ত্রিক জীবনের রুটিন বদ্ধ জীবন যাপন মাঝেমাঝে বড্ড একঘেয়েমি লাগে,পালাতে ইচ্ছে করে ইট-পাথরের এই শহরটাকে পিছনে ফেলে।কিন্তু ছুটি পাওয়া বড়ই কঠিন।পেলেও লম্বা ছুটি তো বড় কোন উৎসব ছাড়া মিলে না।তাই ২/৩ ছোট্ট ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই একটু নিরিবিলি শান্ত এবং কোলাহলমুক্ত পরিবেশে আনন্দময় সময় কাটিয়ে নিজেকে চাঙ্গা করে নিতে।কিন্তু এরজন্য গন্তব্য নির্বাচন করাও কম জটিল নয়।তবে অবকাশযাপনের জন্য পাহাড় না সমুদ্র ভালো তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু ২/৩ দিনের ছুটি কাটানোর জন্য ঢাকা নগরবাসীকে কোন জায়গা পছন্দ করতে বললে কোন বিতর্ক ছাড়া ঢাকার আশপাশের কোন রিসোর্টকে উত্তম বলবে।কারন বাংলাদেশ ছোট্ট দেশ হলেও ট্রাফিকজ্যাম এই দেশের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গার দূরত্ব বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। তাই আজকাল আমার মতো অনেকেরই ২/৩ দিনের বন্ধে দূরে কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না।কারন এতে রাস্তায় অনেকটা সময় কেটে যায়, তাও আবার বিরক্তিকর জ্যামে।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্ট
আমার মতো যাদের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা গ্রামে তারা জীবনের প্রয়োজনে শহরের জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেলেও আমাদের আত্মিক টান অনুভব করি গ্রামের স্নিগ্ধ সজীব প্রকৃতির।ছায়াঘেরা সবুজে জড়ানো প্রকৃতি, পাখির কিচিরমিচির,মোরগ ডাকা ভোর,সবুজাভ পুকুরের জল বা টিনের চালে বৃষ্টির নূপুর ধ্বনি মতো আনন্দময় ও মুহূর্তগুলো সুখানুভূতি হিসেবে সবসময় হৃদয়ে ধারন করে রাখি।তাই তো ঘুমের জন্যও স্লিপিং মিউজিক হিসেবে টিনের চালের বৃষ্টির শব্দকেই বেছে নিতে ভালো লাগে। আমি জানি এটা শুধু আমি না, অনেকেই করে।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#কালমেঘা রিসোর্ট(কালমেঘা কান্ট্রি ক্লাব ও রিসোর্ট)
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#সারাহ রিসোর্ট
বাংলাদেশ ছোট্ট দেশ হলেও ট্রাফিকজ্যাম এই দেশের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গার দূরত্ব বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। তাই আজকাল আমার ২/৩ দিনের বন্ধে দূরে কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না।কারন এতে রাস্তায় অনেকটা সময় কেটে যায়, তাও আবার বিরক্তিকর জ্যামে।আমরা সারাহ রিসোর্টে গিয়েছিলাম ৩ দিনের জন্য।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#কান্তজী মন্দির
কাহিনীসমৃদ্ধ পোড়ামাটির টেরাকোটার অলঙ্করণে নির্মিত কান্তজী মন্দির স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। ইন্দো-পারস্য স্থাপত্যধারায় নির্মিত মন্দিরটিকে আমার কাছে মনে হয় পোড়ামাটির কবিতা।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#কফি
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
# গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
# দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা
আমাদের গাড়ীটা ঢাকা সিলেট রোডের শ্রীমঙ্গল অংশে ঢোকার পর ড্রাইভারকে গাড়ীর গতি কমিয়ে দিতে বলি।এতক্ষণের বোরিং রাস্তার বিরক্তি নিমিষে উধাও।আমার কাছে চা বাগানের ভিতরের এই রাস্তাকে বাংলাদেশের সেরা রাস্তা মনে হয়।কেউ কেউ বান্দরবন বা রাঙামাটি ভোটে এগিয়ে রাখবে জানি, কিন্তু মনে হয় সেখানে দুর্ঘটনা ঝুঁকি থাকায় সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায় না বা দাঁড়ানো যায় না খানিকক্ষণের প্রশান্তির জন্য।যা এখানে সম্ভব।যত দূর চোখ যায় কেবল সবুজের হাতছানি।নীল আকাশের নিচে যেন সবুজ গালিচা পেতে আছে সজীব প্রকৃতি। ছোট ছোট পাহাড়, টিলা আর দিগন্ত বিস্তৃত চা-বাগান, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ।শুধু সবুজ আর সবুজ। মাঝে মাঝে টিলা বেষ্টিত ছোট ছোট জনপদ। প্রকৃতির সকল সৌন্দর্যের সম্মিলন যেন এখানে।এমন অন্তহীন সৌন্দর্যে একাকার প্রকৃতির প্রেমে না পড়ার মতো কোন হৃদয়হীন এই ধরাধামে আছে বলে মনে হয় না।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
# মারমেইড বীচ রিসোর্ট
একপাশে পাহাড় আর অন্য পাশে ঝাউবন আর গাছ গাছালির মাঝ দিয়ে চলে গেছে রাস্তা। কখনো ঝাউগাছের ফাঁক দিয়ে সাগর কাছে আসে, কখনো বা দূরে যায়। কক্সবাজার থেকে প্রায় 18/20 মিনিট চলার পর গাড়ী মারমেইড রিসোর্টের দিকে বাঁক নিল। রাস্তার উপর থেকে বোঝা উপায় নেই রিসোর্টের উপস্থিতি, শুধু সাইনবোর্ড ছাড়া।
কোভিড জনিত কারনে অভ্যর্থনার রীতি রেওয়াজে অনেক পরিবর্তন এসেছে,সেটা ঘর থেকে শুরু করে সরকারী অফিস, কর্পোরেট অফিস বা রেস্তোরা থেকে রিসোর্ট,সব জায়গাতেই।আর মারমেইড রিসোর্ট সব কিছুতেই আলাদা তা আমরা গাড়ী থেকে নেমেই টের পেলাম।করোনা জনিত সব হোটেল, রেস্তোরা দুর থেকে জ্বর মাপা মেশিন ধরে আর হাতে স্যানিটেশন লোশন একটু দিয়ে দেয়।এরা বাহিরে রাখল বেসিন যাতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া যায়। রিসোর্ট কর্মীরা বিনয়ের সাথে দেখিয়ে দিচ্ছে হাত ধুয়ে জীবাণুনাশক দিয়ে ভেজানো পাপোশে পা রেখে রিসোর্টের দিকে এগিয়ে যেতে।এই সময় তাদের সময়োপযোগী ব্যবস্থা আমার বেশ ভালো লেগেছে। আমি এই রিসোর্টে আগেও কয়েক বার গিয়েছি।তখন একটু ভিন্ন ভাবে বুনো ফুলের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা জানাতো।
খানিক দূর হাঁটতেই আমাদের স্বাগতম জানালো তবে এবার মালা দিয়ে নয়, হাতে কিছু এমাজন লিলি আর জবা দিয়ে।খুব দ্রুততার সাথে সব আনুষঙ্গিকতা শেষ করলো।এর মাঝে অভ্যর্থনা কর্মীরা মিষ্টি হাসি দিয়ে আমাদের হাতে দিয়ে গেল ডাবের পানির গ্লাস।এটাই আমাদের ওয়েলকাম ড্রিংকস।বাংলাদেশে সাধারণত ওয়েলকাম ড্রিংকস বলতে তথাকথিত টং দেয়া হয়,যা দেখলেই খাওয়ার ইচ্ছে চলে যায়।তবে দেশের বাহিরে অবশ্য সবসময় ওয়েলকাম ড্রিংকসে ভিন্নতা থাকে, পরিবেশনেও থাকে নান্দনিকতা।
১২ একর জায়গার ওপর তৈরি এই রিসোর্টের ভেতরে সরু পাকা আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে এগুলেই চোখে পড়ে গাছপালার আড়ালে থাকা ছোট-বড় অনেক কুটির। এখানকার থাকার ঘরগুলো ছাদ-চালা, বাঁশ ও ছন দিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তা গাছপালা গুলোর উচ্চতাকে ছাড়িয়ে না যায়।রাস্তার দুপাশে সাজানো মাটির পাত্রে পানির ওপর ফুল ভাসানো আছে, যাতে গাছগাছালির ফাঁকে গলে আসা রোদ আলো ছায়া লুকোচুরি খেলছে।সাথে রাতের জন্য আছে দৃষ্টনন্দন বাতি।
প্রকৃতি ও আধুনিকতার সমন্বয়ে পরিবেশ সম্মত ও প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি কুটির গুলো মূলত ইকো ট্যুরিজমের কনসেপ্ট মাথায় রেখেই করা হয়েছে। ইট-পাথরের দালানের অভ্যস্ততা থেকে কয়েকটা দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামীণ জীবনের স্বাদ নিতে পারেন এমনবাঁশ, কাঠ ও ছনের তৈরি কটেজগুলো শান্তির নীড়ে।
কুটিরগুলোর জানালা ও দরজারগুলো অনেক বড় করে তৈরি যাতে অতিথিরা সুনির্মল বাতাস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।কুটির গুলোর নামেও ছিল বৈচিত্র্য।আমাদের কুটিরের নাম ছিল লাভার স্কুইড।প্রতিটি নাম এমনই বিচিত্র ছিল।
বাহির থেকে স্রেফ কুটিরের মতো দেখালেও ভেতরে কিন্তু আধুনিক।বিশেষ করে স্নান ঘরের ডেকারেশন আমার বেশ পরিপাটী লেগেছে, প্লাস্টিকের বোতলে ভর্তি বাজারি শ্যাম্পুর বদলে কাচের পাত্রে ভেষজ উপায়ে বানানো শ্যাম্পু। সেটা আবার সবুজ গাছের পাতা দিয়ে কায়দা করে ঢাকা। দুই পাশে দুটো কাঠগোলাপ ফুল গুঁজে দেয়া। সাবান, শ্যাম্পু রাখা ছিল নারকেলের লম্বা একটা খোলের মধ্যে।এছাড়াও ইয়োগ সেন্টার, স্পা,সম্মেলন কক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ সবকিছুরই ব্যবস্থা আছে এ পরিবেশবান্ধব অবকাশ যাপন কেন্দ্রে,যা একটা আধুনিক রিসোর্টে থাকে।ছোট্ট স্যুভেনির শপও আছে এখানে।যেখান থেকে দেশীয়, বার্মিজ এবং কক্সবাজারের স্থানীয় স্মারক কেনা যায়।
দুপুরের খাবারের জন্য ছিল কয়েক ধরনের বসার ব্যবস্থা।এসি রেস্টুরেন্ট, খোলা জায়গায় গাছের নীচে বালুর উপর পাতা টেবিল চেয়ার আবার ছাউনি দেয়া চারপাশ খোলা রেস্টুরেন্টও ছিল।আমরা খোলা রেস্টুরেন্টে বসলাম সমুদ্রের বাতাসে বসে সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নেবার জন্য। যদিও আমি মাছ খাই না।তাই আমার জন্য স্পেশাল সবজী ডিস দেয়া হল।তবে খাবার গুলোর পরিবেশনে এত বৈচিত্র্য ছিল যে আমি বসে বসে সবগুলো খাবারের ছবি তুলেছি।




মারমেইড রিসোর্টের বড় আকর্ষণ হলো নিজস্ব সমুদ্র সৈকত। রিসোর্টের সামনেই আদিগন্ত সমুদ্র; বলতে গেলে ঘর থেকে বের হলেই।
রোদ কিছুটা কমলে কুটিরের সামনের বাঁশের বেঞ্চে গা এলিয়ে দিয়ে সমুদ্র গর্জন আর বাতাসের মিলিত কণ্ঠে মন মাতাল করা গান শুনলাম।বিকালের দিকে অনেকই নৌকা ভ্রমণে বের হয় রেজু খালে।


বিকালবেলা একা বের হলাম আমার ক্যামেরা নিয়ে, খেয়াল করলাম সৈকতের বালুর উপর এখানে-সেখানে অনেক বসার জায়গা,তা আবার বিভিন্ন আকৃতির।যেন যেখান থেকে ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে, যখন ইচ্ছা সাগরের গান শোনার সব ব্যবস্থা করা আছে।এছাড়াও আছে লেখার টেবিল, ছবি আঁকার জন্য ইজেল।এক জায়গায় ছোট করে লাইব্রেরীর মত কিছু বই রাখা আছে,যা আমার কাছে সবচেয়ে বেশী ভালো লাগলো।আরো আছে ছবি তোলার বিশেষ ফ্রেম, হানিমুন কাপল বা তরুণ-তরুণীদের কথা মাথায় রেখে এই আয়োজন।অবশ্য এতে তাদের বিজ্ঞাপনের কাজও হয় সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে।আরেকটা বিষয় নজরে পড়ল,জায়গায় জায়গায় অসংখ্য প্লাগ পয়েন্ট, যেন কোনকিছুতে চার্জ দিতে হবে বলে আড্ডায় বা গল্পে বিঘ্ন না ঘটে। হাঁটতে হাঁটতে নারকেল গাছ পেরিয়ে রেজু খালের পাড় ধরে বেশ খানিক চলে গিয়েছিলাম।রেজু খালের পানি কিছুটা নীলচে রঙের।সাগরের শাখাই বলা যায় রেজু খালকে।পাশ দিয়ে ভেসে যায় বাহারি সাম্পান।ভেজা বালুতে একটু পর পর ছোট ছোট ছিদ্র দেখে আমি বুঝেছি লাল কাঁকড়ার আবাস্থল এখানে।আগে কলাতলী ও ইনানী বীজে হরহামেশাই দেখা যেত।পরিবেশ দূষণের কারনে এখন আর দেখা যায় না।একটু চুপ করে দাঁডিয়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি দেখলাম।




ঝাউগাছ গুলো দখিনা বাতাসে এমন ভাবে মাথা দোলাচ্ছিল যেন মাথা নেড়ে আনন্দের সাথে অভিবাদন জানাচ্ছে।নির্জন সাগরতীরে আপন মনে হাঁটতে হাঁটতে কোন ফাঁকে বেলা পেরিয়ে গেল টেরই পেলাম না।ফিরতে ফিরতে দিগন্ত জুড়ে লাল রং ছড়িয়ে সূর্যমামা বিদায় বেলার জানান দিচ্ছিল।শেষ গোধূলির রঙে সন্ধ্যা ঘনানো আলো আর মাতাল বাতাস যেন কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলে গেল ফেরার সময় হল বলে।
রাতের খাবারের পর বোট ক্লাবের পাটাতনে পেতে রাখা চেয়ারে বসে সাগরের ঢেউের উপর চাঁদের রূপালী আলো তীরে এসে লুটিয়ে পড়া দেখতে দেখতে আপন খেয়ালে সুর বেসুরে গান গাইলেও সমস্যা নেই।কারন একটু দূরে দূরে পাতা চেয়ার অন্য যারা আছে তাদের মনও এখন মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণে নেই।যেমনটা আমারও ছিল না।আশ্চর্য মৌনতায় ডুবে ছিল সমস্ত এলাকা।গভীর রাত পর্যন্ত বসে ছিলাম, মনে হচ্ছিল প্রতি দিনই ঘড়ি ধরে ঘুমাই- জাগি, একরাত না হয় সাগর আর চাঁদের আলোর লুটোপুটি দেখে কাটিয়েই দিলাম।
অভ্যাসমত ভোরবেলায় উঠে গেলাম সূর্যাদয় দেখবো বলে।আমার মনে হয় সূর্যোদয় মানুষকে ভাবতে শিখায় নতুন শুরুর কথা, পুরানো দুঃখ কষ্ট ভুলে নব আনন্দে মন প্রাণ জাগাতে।তবে বেড়াতে গেলে ভোরে উঠি অবশ্য একই স্থান বা শহরের ভিন্ন রূপ দেখতে।কক্সবাজারে এলে অবশ্য ভোরবেলায় নিরাপত্তা জনিত কারনে বাহির হই না, জানালা দিয়ে যতদূর সম্ভব দেশি,কফি মগ নিয়ে বারান্দায় বসি।এখানে নিরাপত্তা সংকট নেই তাই বের হলাম ক্যামেরা নিয়ে।আকাশে কিছু পাখির এলোমেলো উড়াউড়ি দেখতে দেখতে, হঠাৎ মনে হলো কোনো ষোড়শী লজ্জা পেয়ে গাল লাল হয়ে যাওয়ার মতো মেঘের একটা কিনারা লাল হয়ে উঠেছে। ঠিক লাল নয়, কমলা।সূর্যের আলতো রশ্মি এসে পড়েছে মেঘের গায়ে। এতটাই মৃদু আলো যে, মেঘ ভেদ করে সে আলো এপারে আসতে পারছে না। সেই সাদা মেঘের উপর কমলা রঙের আভার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।কোনো ক্যামেরারই সাধ্য নেই সে ছবি তোলার।কারন মানুষের চোখে লেন্স কোন জিনিশ বা রং কে যে নিখুঁত ভাবে দেখতে জানে ক্যামেরা তা লেন্সে ধরতে পারেনা।কোনো কবি হয়তো পারবেন ওই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে।
শহরের ব্যস্ততায় কান্ত মানুষ চায় যান্ত্রিক কোলাহল ও নাগরিক ব্যস্ততা মুক্ত অবকাশ।মোটামুটি সব আয়োজনই আছে এখানে।এককথায়, প্রকৃতির সান্নিধ্যে বা সমুদ্রের মৃদু মন্দ হাওয়ার সাথে অপার নির্জনতার আবেশে মনকে সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তুলতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন মারমেইড ইকো রিসোর্টে।




_
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
# ফয়েজ লেক রিসোর্ট
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
#কিংবদন্তির ভাওয়ালে একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস(ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা)
কভিড জনিত কারনে লম্বা সময় ধরে নিয়ন্ত্রিত গতিবিধি মেনে চলতে চলতে খুব হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। দমবন্ধকর এই অনুভূতি থেকে বের হয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতেই এই যাত্রা।বিধি নিষেধের কারনে দেশের বাহিরে যাওয়া যাচ্ছে না,আবার দেশের জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট গুলো এতটা কোলাহলপূর্ণ যাওয়ার ইচ্ছে বা সাহস কোনটাই পেলাম না।তাই আমরা ছায়াঘেরা নীরব, নিস্তব্ধএবং কোলাহল মুক্ত ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা রিসোর্টটিকে গন্তব্য নির্ধারণ করলাম।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.
# রমনাপার্ক
বৃক্ষলতা বিহীন এই ইট পাথরের এই শহরে রমনাপার্ককে এক টুকরো সবুজ বললে কম হবে,রমনাপার্ককে এই শহরের ফুসফুস বললে যথার্থ হয়।নামে ষড়ঋতুর বাংলাদেশ হলেও, বাস্তবতায় ঋতু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতির যে একটা রূপান্তর ঘটে, তা আমাদের নগর জীবনে কমই দৃশ্যমান হয়।আমরা কেবল দিন পঞ্জিকার পৃষ্ঠা দেখে জানতে পারি।সত্যি করে বললে বলতে হয়,আমাদের ঋতু গুলো এমন নিঃশব্দে বদল হয় যে, অতি সংবেদনশীল মানুষও কোন কোন ঋতুর উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই নাম বদলে যায়।তবে আমি সকালের রমনায় ঋতু পরিবর্তনের অস্তিত্ব বেশ ভালো ভাবেই উপলব্ধি করি। মাঝেমাঝে মনে হয় রমনাপার্ক না থাকলে আমার মত অনেকেরই প্রকৃতির এমন অনন্য রূপ অদেখাই থেকে যেত।
Hey, I’m binita.I’m interested to be lost somewhere with a camera. I love sharing my traveling experience and photograph for inspiring people to explore this big world.



















